বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের জন্য ছবি আঁকা প্রথম সংগঠিতভাবে শুরু করে শিশু-কিশোর সংগঠন, 'খেলাঘর' ও 'কচি-কাঁচার' মেলা। ১৯৫৬ সালে খেলাঘর বাংলা একাডেমিতে ছোটদের জন্য বেশ বড়সড় এক চিত্রপ্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। অনেক শিশু-কিশোর নিজেদের আঁকা ছবি দিয়ে সেই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছিল। এ দেশে সেই প্রদর্শনীটি ছিল শিশুদের আঁকা ছবির প্রথম প্রদর্শনী। এরপর কচি-কাঁচার মেলা ১৯৫৮ সালে একটি প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু করে ছোটদের ছবি আঁকার স্কুল। নাম দেয় 'শিল্পবিতান'।
কচি-কাঁচার মেলা সে সময় শিশুদের সংস্কৃতিচর্চা, শিল্পকলা চর্চা ইত্যাদিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে নানারকম কর্মসূচি গ্রহণ করে। স্কুল-কলেজে লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে বই পড়া, গান গাওয়া, নাটক করা, ছবি আঁকা, বিতর্ক করা ও খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার জন্য বিভিন্নরকম কর্মসূচি গ্রহণ করে।
শিল্পী হাশেম খান তখন কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সক্রিয় সদস্য (সাথীভাই)। ছোটদের ছবি আঁকার বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরে ভাবছিলেন কী করে সংগঠনের মাধ্যমে উপযুক্ত ও যথাযথভাবে ছবি আঁকায় শিশুদের আগ্রহ বাড়িয়ে দেওয়া যায়। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিভাবকরা শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিন বিকেলে কচি-কাঁচার মেলায় চলে আসতেন।
কচি-কাঁচার মেলার একটি ঘরে একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে শিশুদের আঁকতে বলতেন। শিশুদের জন্য অনেক কাগজ, রং, তুলি আগেই তৈরি থাকত। শিশুরা এত রং, কাগজ দেখে আনন্দে কাগজের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ত। ধীরে ধীরে একসঙ্গে বসে গল্প, হাসি ও খেলার মতো করে ইচ্ছেমতো রংতুলি নিয়ে আঁকিবুকি করতে করতে এক একটি ছবি এঁকে ফেলত। নিজেরাই নিজেদের আঁকা দেখে খুশিতে বাগ বাগ। অভিভাবকরাও তাদের শিশুদের কল্পনাশক্তি দেখে যেমন অবাক হতেন, তেমনি খুশিও হতেন। এভাবেই গড়ে ওঠে শিশুদের ছবি আঁকার খেলাঘর শিল্পবিতান। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান, শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ, শফিকুল আমিন প্রমুখ চিত্রশিল্পী কচি-কাঁচার মেলার এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও শফিকুল আমিন পরবর্তীকালে কচি-কাঁচার মেলা ও শিল্পবিতানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিশুদের ছবি আঁকা ও অন্যান্য সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ যোগান।
| কাজ: শিশুদের ছবি আঁকার স্কুল শিল্পবিতান কীভাবে গড়ে উঠেছিল, সে সম্পর্কে ৫ লাইন লেখো। |